ফোনের ব্যাটারি খারাপ হলে সার্ভিস সেন্টারে যেতে হয়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, হাজার হাজার টাকা খরচ। কিন্তু ২০২৭ সাল থেকে এই ঝামেলা শেষ — ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) নতুন আইন করেছে যেখানে Apple, Samsung সহ সব কোম্পানিকে ফোনের ব্যাটারি ব্যবহারকারীর নিজে বদলানোর সুযোগ দিতে হবে। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে — এবং এর প্রভাব ভারতেও পড়বে।
নতুন নিয়ম কী?
- কার্যকর তারিখ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭
- কোথায়: ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশে বিক্রি হওয়া সব স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট
- মূল শর্ত: ব্যাটারি “readily removable” হতে হবে — সাধারণ মানুষ (বিশেষ প্রশিক্ষণ ছাড়া) যেন নিজে বদলাতে পারেন
- টুলস: বাজারে সহজলভ্য সাধারণ টুল দিয়ে খোলা যেতে হবে — কোম্পানির বিশেষ প্রপ্রাইটরি টুল দরকার হলে সেটি ফোনের সাথে বিনামূল্যে দিতে হবে
- রিপ্লেসমেন্ট ব্যাটারি: ফোন বাজারে আসার পর কমপক্ষে ৫ বছর রিপ্লেসমেন্ট ব্যাটারি পাওয়া যেতে হবে
Apple ও Samsung-এ কী বদলাবে?
এখনকার iPhone ও Samsung Galaxy ফোনে ব্যাটারি শক্ত আঠা (adhesive) দিয়ে লাগানো থাকে — খোলতে হিট গান, সাকশন কাপ ও বিশেষ টুল দরকার। সাধারণ মানুষের পক্ষে নিজে খোলা প্রায় অসম্ভব — ভুল করলে ব্যাটারি ফুলে যেতে পারে বা ফোনের মাদারবোর্ড নষ্ট হতে পারে। নতুন নিয়মে কোম্পানিদের আঠা কমাতে হবে ও ব্যাটারি সহজে অ্যাক্সেসযোগ্য করতে হবে। ভবিষ্যতে YouTube-এ ৫ মিনিটের টিউটোরিয়াল দেখে নিজেই ফোনের ব্যাটারি বদলাতে পারবেন — সার্ভিস সেন্টারে যাওয়ার দরকার হবে না।
তবে একটি বিশেষ ছাড় আছে — যদি ফোনের ব্যাটারি ১,০০০ পূর্ণ চার্জ সাইকেলের পর ৮০% ক্ষমতা ধরে রাখে, তাহলে “readily removable” শর্ত থেকে অব্যাহতি পাওয়া যেতে পারে। iPhone 15 ও Samsung Galaxy S24-এর ব্যাটারি এই মান পূরণ করে — তাই Apple ও Samsung ছাড় পেতে পারে। কিন্তু বাজেট ও মিড-রেঞ্জ ফোনে এই মান পূরণ কঠিন — সেগুলোতে ব্যাটারি বদলানো সহজ করতেই হবে।
ভারতে কী প্রভাব পড়বে?
EU-র নিয়ম সরাসরি ভারতে প্রযোজ্য নয় — কিন্তু প্রভাব পড়বে। কারণ Apple, Samsung, Xiaomi ও অন্যান্য কোম্পানি আলাদা আলাদা দেশের জন্য আলাদা হার্ডওয়্যার তৈরি করে না — একই ডিজাইন সারা বিশ্বে বিক্রি হয়। EU-র জন্য ব্যাটারি সহজে বদলানোর ডিজাইন করলে সেই ফোন ভারতেও আসবে। যেমন EU-র USB-C আইনের পর ভারতেও সব ফোনে USB-C এসেছে। একইভাবে ব্যাটারি বদলানোর সুবিধাও ভারতে আসবে।
পুরনো দিনের ফিরে আসা?
অনেকে ভাবছেন Nokia 1100 বা Samsung Galaxy S5-এর মতো “পেছনের কভার খুলে ব্যাটারি বদলানো” ফিরে আসবে। কিন্তু তা হওয়ার সম্ভাবনা কম। EU-র নিয়মে বলা হয়েছে “commercially available tools” দিয়ে খোলা যেতে হবে — মানে স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে কিছু স্ক্রু খুলে ব্যাটারি বের করা যাবে। IP68 ওয়াটারপ্রুফিং ও স্লিম ডিজাইন বজায় রেখেই এটি সম্ভব — Apple ইতিমধ্যে iPhone 16-এ ব্যাটারি adhesive সহজ করেছে। Samsung Galaxy S25-এও ব্যাটারি ট্যাব সিস্টেম চালু করেছে যাতে adhesive সহজে ছাড়ানো যায়। ভবিষ্যতের ফোনে ব্যাটারি বদলানো আরও সহজ হবে — কিন্তু ফোনের স্লিমনেস ও ওয়াটারপ্রুফিং কমপ্রোমাইজ হবে না।
ব্যবহারকারীদের সুবিধা
- খরচ কম: সার্ভিস সেন্টারে ব্যাটারি বদলাতে ₹২,০০০-৮,০০০ লাগে — নিজে করলে শুধু ব্যাটারির দাম (₹৫০০-২,০০০), বাকি টাকা বাঁচবে
- সময় বাঁচে: সার্ভিস সেন্টারে ১-৩ দিন অপেক্ষা — নিজে করলে ১০-২০ মিনিট
- ফোন দীর্ঘস্থায়ী: ব্যাটারি খারাপ হলে নতুন ফোন কেনার বদলে ব্যাটারি বদলান — ₹৫০,০০০-এর ফোন আরও ২-৩ বছর চলবে, অর্থনৈতিকভাবে বুদ্ধিমানের কাজ
- পরিবেশ বান্ধব: কম ই-ওয়েস্ট — ফোন ফেলে না দিয়ে ব্যাটারি বদলে ব্যবহার করুন, প্রতি বছর কোটি কোটি ফোন ল্যান্ডফিলে যাওয়া কমবে
২০২৭ থেকে ফোনের ব্যাটারি বদলানো সবার জন্য সহজ হবে। EU-র এই আইন ভারতেও প্রভাব ফেলবে — নতুন ফোনে ব্যাটারি অ্যাক্সেস সহজ হবে, রিপেয়ার খরচ কমবে ও ফোনের আয়ু বাড়বে। একটি দুর্দান্ত পদক্ষেপ — যেখানে গ্রাহক ও পরিবেশ দুজনেই লাভবান।
ভারতে কি একই আইন আসবে?
ভারত সরকার এখনো এমন নিয়ম ঘোষণা করেনি। তবে ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও IT মন্ত্রণালয় ই-ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ম ২০২৩-এ কিছু পরিবর্তন এনেছে — যেখানে প্রোডিউসারদের পুনর্ব্যবহারযোগ্যতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। USB-C আইনের মতো EU-র ব্যাটারি নিয়মও ভারতকে অনুপ্রাণিত করতে পারে। তবে কোম্পানিরা গ্লোবালি একই ডিজাইন ব্যবহার করায় ভারতীয় গ্রাহকরা কার্যত এই সুবিধা পেয়ে যাবেন — আলাদা আইনের অপেক্ষা না করেই। এটি USB-C-র মতোই হবে — EU আইন করেছে, ভারতেও সব ফোনে USB-C এসেছে।
কবে থেকে ফোনের ব্যাটারি নিজে বদলানো যাবে?
EU-র নিয়ম অনুযায়ী ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ থেকে ইউরোপে বিক্রি হওয়া সব ফোনে ব্যাটারি সহজে বদলানোর সুযোগ থাকতে হবে। ভারতেও একই ডিজাইনের ফোন আসবে।
Apple iPhone-এ কি ব্যাটারি নিজে বদলানো যাবে?
সম্ভবত হ্যাঁ — তবে iPhone-র ব্যাটারি যদি ১,০০০ সাইকেলে ৮০% ক্ষমতা ধরে রাখে তাহলে Apple ছাড় পেতে পারে। তবুও Apple ইতিমধ্যে ব্যাটারি adhesive সহজ করছে।
নিজে ব্যাটারি বদলালে কত খরচ হবে?
শুধু ব্যাটারির দাম ₹৫০০-২,০০০। সার্ভিস সেন্টারে ₹২,০০০-৮,০০০ লাগে — তাই ₹১,৫০০-৬,০০০ বাঁচবে।
ভারতে কি একই নিয়ম আসবে?
ভারত সরকার এখনো এমন নিয়ম ঘোষণা করেনি। তবে কোম্পানিরা EU-র জন্য যে ডিজাইন করবে সেটিই ভারতেও আসবে — তাই কার্যত সুবিধা ভারতেও পাওয়া যাবে।






