Bajaj Auto বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে — তাদের ফ্ল্যাগশিপ ন্যাকেড স্ট্রিটফাইটার Pulsar NS400Z-কে নতুন 350cc ইঞ্জিনে আপগ্রেড করেছে! আগের ৩৭৩cc ইঞ্জিন বদলে এখন এতে থাকবে ৩৪৯.১৩cc লিকুইড-কুলড সিঙ্গেল-সিলিন্ডার মোটর। সবচেয়ে মজার ব্যাপার — এই ইঞ্জিন ডাউনসাইজিং সত্ত্বেও দাম একই রয়েছে ₹১,৯৩,৯০০ (ex-showroom, দিল্লি)। KTM 390 Duke, Triumph Speed 400 ও Dominar 400-এর মতোই GST 2.0 এর নতুন ট্যাক্স স্ল্যাব সুবিধা নিতে এই পদক্ষেপ। আসুন বিস্তারিত দেখি — কী বদলেছে, কী একই থাকল, এবং Pulsar NS400Z 350cc কিনবেন কিনা।

কেন ৩৭৩cc থেকে ৩৫০cc-তে নেমে এল?

ভারতে নতুন GST 2.0 ট্যাক্স স্ট্রাকচার অনুযায়ী ৩৫০cc-এর নিচে বাইকে কম GST প্রযোজ্য হয়। ৩৫০cc-এর উপরের বাইকগুলিতে লাক্সারি সেস লাগে, যা দাম বাড়িয়ে দেয়। KTM, Triumph, এবং BMW-এর মতো ব্র্যান্ডগুলি ইতিমধ্যে তাদের 390cc, 400cc ইঞ্জিন ৩৫০cc-তে রি-টিউন করে ট্যাক্স বেনিফিট নিচ্ছে। Bajaj শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত নিল — কিন্তু মজার বিষয় হল Pulsar NS400Z-এর দাম কমেনি, একই আছে। অর্থাৎ ট্যাক্স বাঁচানো যে ডিসকাউন্ট আসত, তা Bajaj নিজের মার্জিনে রেখেছে।

নতুন ৩৪৯.১৩cc ইঞ্জিন — পাওয়ার ফিগার

Bajaj-এর ইঞ্জিনিয়াররা ৩৭৩cc থেকে ৩৪৯.১৩cc-তে নামানোর জন্য বোর একই ৮৯mm রেখেছেন কিন্তু স্ট্রোক ৬০mm থেকে কমিয়ে ৫৬.১mm করেছেন। এর ফলে পাওয়ার আউটপুট দাঁড়িয়েছে:

  • পিক পাওয়ার: ৪০.৬ PS (২৯.৪২ kW) @ ৯,০০০ rpm (পুরনো ৪০ PS-এর চেয়ে সামান্য বেশি!)
  • পিক টর্ক: ৩৩.২ Nm @ ৭,৫০০ rpm (পুরনো ৩৫ Nm থেকে ১.৮ Nm কম)
  • কম্প্রেশন রেশিও: ১৩:১
  • টপ স্পিড: ১৪৫+ kmph (আগের মতোই)

অবাক হওয়ার মতো ব্যাপার — পিক পাওয়ার আসলে ০.৬ PS বেড়েছে। টর্ক কিছুটা কমেছে, কিন্তু উচ্চ rpm-এ (৭,৫০০ rpm) আসছে — যা স্পোর্টি রাইডিং স্টাইলের সাথে মানানসই। Dominar 400-এর সাথে একই ৩৪৯.১৩cc ইঞ্জিন শেয়ার করা হচ্ছে, যা Bajaj-কে অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মাস প্রোডাকশন সাশ্রয় দেয়।

কী ফিচার একই থাকল?

ভালো খবর হল Pulsar NS400Z-এর স্বতঃসিদ্ধ অ্যাগ্রেসিভ নেকেড স্পিরিট ও প্রিমিয়াম ফিচার অটুট থাকছে। ট্রান্সমিশন হিসেবে থাকছে ৬-স্পিড গিয়ারবক্স, অ্যাসিস্ট ও স্লিপার ক্লাচ, রাইড-বাই-ওয়্যার থ্রোটল। ইলেকট্রনিক্স প্যাকেজ — ৪টি রাইড মোড (Road, Sport, Rain, Off-Road), সুইচেবল ট্র্যাকশন কন্ট্রোল, ডুয়াল-চ্যানেল ABS। এছাড়া ব্লুটুথ-এনেবলড LCD কনসোল — কল অ্যালার্ট, নেভিগেশন, মিউজিক কন্ট্রোল, এবং SMS নোটিফিকেশন সাপোর্ট করে। LED প্রজেক্টর হেডল্যাম্প, USD ফোর্ক, মনোশক রিয়ার, ৩২০mm ফ্রন্ট ডিস্ক ব্রেক — সবকিছু আগের মতোই প্রিমিয়াম।

প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে তুলনা — ২ লাখের নিচে সেরা?

বৈশিষ্ট্যBajaj Pulsar NS400Z 350ccKTM 390 Duke (250cc+)Triumph Speed 400
দাম (ex-showroom)₹১,৯৩,৯০০₹৩,১১,৪৮৬₹২,৪০,০০০
ইঞ্জিন৩৪৯.১৩cc LC৩৯৮.৭cc LC৩৯৮cc LC
পাওয়ার৪০.৬ PS৪৫.২৬ PS৪০ PS
টর্ক৩৩.২ Nm৩৯ Nm৩৭.৫ Nm
TFT/LCDব্লুটুথ LCD৫” TFTTFT
কুইকশিফটারনেইআছেনেই

আগের ৩৭৩cc ইউজারদের জন্য কী পার্থক্য?

রিয়াল-ওয়ার্ল্ড ড্রাইভিংয়ে যারা ইতিমধ্যে পুরনো Pulsar NS400Z (৩৭৩cc) চালিয়েছেন — তাদের নতুন ৩৫০cc-তে সামান্য টর্ক কমানো (১.৮ Nm) অনুভূত হতে পারে, বিশেষত লো-rpm পুল-এ। তবে পিক পাওয়ার বেড়েছে, তাই হাই-rpm রেভিং ও হাইওয়ে ওভারটেকিংয়ে পারফরম্যান্স একই বা আরও বেটার। মাইলেজ ২৮-৩২ kmpl মিক্সড কন্ডিশনে — শর্টার স্ট্রোকের কারণে সামান্য উন্নতি হতে পারে। ইঞ্জিন ভাইব্রেশন ও সাউন্ড সিগনেচার ৮৯mm বোর একই থাকায় পরিবর্তন নেই।

কেন Pulsar NS400Z ৩৫০cc কিনবেন?

প্রথমত, ২ লাখ টাকার নিচে এটি ভারতের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ৪০ PS+ ন্যাকেড বাইক। KTM 390 Duke আপনি কিনতে চাইলে লাগবে প্রায় ₹৩.১ লাখ — মানে ১.২ লাখ বেশি! দ্বিতীয়ত, GST 2.0 বেনিফিটের কারণে ভবিষ্যতে সার্ভিস ও পার্টসের উপরেও ইনডিরেক্ট সেভিংস। তৃতীয়ত, Dominar 400-এর সাথে ইঞ্জিন শেয়ার করায় পার্টস অ্যাভেইলেবিলিটি ও ডিলার সাপোর্ট আরও শক্তিশালী। যারা অ্যাগ্রেসিভ স্ট্রিটফাইটার লুক, প্রিমিয়াম ইলেকট্রনিক্স ও ৩৫০cc+ পাওয়ার চান — তাদের জন্য এটি বেস্ট বাই ২০২৬-এ।

তবে যদি আপনি TFT ডিসপ্লে, কুইকশিফটার, বা অফ-রোড ক্যাপাবিলিটি চান — তাহলে KTM 390 Duke বা BMW F 450 GS (২৩ এপ্রিল লঞ্চ) দেখুন। Pulsar NS400Z-এর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন — Bajaj দাম কমানো উচিত ছিল কিনা? GST বেনিফিট কাস্টমারকে পাস-অন না করে কোম্পানি রেখেছে, যা কিছু ক্রেতার কাছে অসন্তোষের কারণ হতে পারে।

আরও পড়ুন — Bajaj Pulsar NS400Z vs Triumph Scrambler 400 XC — ₹1.94 লাখ vs ₹2.70 লাখ তুলনা

Leave a Comment